সাড়ে সাত বছর আগে রং নম্বরে মোবাইলে পরিচয়। তখন নিজের আসল পরিচয় গোপন রেখে মুসলিম এক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছেলে আনন্দ সরকার (৩০)। প্রেম কিছুটা গভীর হওয়ার পর শুরু হয় দেখা সাক্ষাৎ। একপর্যায়ে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও করেছে আনন্দ সরকার।
এ নিয়ে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর ২০২৫) ভোক্তভোগী ওই মেয়ে বাদি হয়ে আনন্দ ও তার বাবা-মায়ের নামে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ছেলের বাড়ি উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের রুহি গ্রামে। সে ওই গ্রামের পুন্য সরকার ও মালা দম্পতির সন্তান। ভোক্তভোগী মেয়ে পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগ ও ভোক্তভোগী ওই নারী জানান, প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর এক পর্যায়ে ২০১৮ সালের ১০ মার্চ আনুমানিক রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের একটি বাসায় এনে প্রথমবার ওই যুবতীকে ধর্ষণ করে আনন্দ। পরে শহরের ভাড়াটিয়া একটি বাসায় ১০-১৫ দিন রেখে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আরও একাধিকবার ধর্ষণ করে। তখন ভোক্তভোগী নারী আনন্দকে বিয়ের চাপ দেয়। পরে ওই নারীকে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে অপর একটি বাসা ভাড়া নেয় আনন্দ সরকার। সেখানে আনন্দ ও তার বাবা এবং মাকে মুসলমান হিসাবে জন্ম সনদ তৈরি করে নারীকে কাবিন মূলে বিবাহ করে। এরপর একটি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তারা সংসার করতে থাকে। তাতে কেটে যায় সাতটি বছর।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্যমতে, সাত বছর সংসার জীবনে ওই নারীকে আনন্দের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে আনন্দ বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করতে থাকে। এবং তাকে বাড়িতে আসতে দেয়নি। পরবর্তীতে একদিন আনন্দের ব্যবহৃত মোবাইলে ইসকন সংগঠনসহ হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন কার্যক্রম, ছবি ও ভিডিও দেখে নারীর সন্দেহ হয়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, আনন্দের মোবাইলে হিন্দু ধর্মের নানা ডকুমেন্টের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আনন্দ আমাকে গাজীপুরের শ্রীপুর মাওনা চৌরাস্তার ভাড়া বাসায় রেখে তার বাড়িতে চলে আসে। গত মাসের ২৯ অক্টোবর আমি আনন্দের বাড়িতে গিয়ে তার ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারি। এসময় তাকে মুসলমান হওয়ার কথা বলি। তখন আনন্দ, তার মা ও বাবা নিজেদের ইসকনের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে আমাকে তাড়িয়ে দেয়। বিষয়টি আমার পরিবারের লোকজনদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপোষ মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আমি থানায় অভিযোগ করি। আমি এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানাচ্ছি।